ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে দুর্ব্যবহার: ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

দিনাজপুরের বিরল উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির মোটরসাইকেল আটক ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে শনিবার (১ জুন) বিকেলে বিরল থানা পুলিশের একজন এসআই ও তিনজন কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে।

যাদেরকে ক্লোজড করা হয়েছে তারা হলেন, বিরল থানার এসআই নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল সাগর, মিজান ও বাবুল। শনিবার বিকেলেই তাদের বিরল থানা থেকে ক্লোজড করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার।

স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিরল থানা পুলিশের বিশেষ চেকিং চলাকালে শনিবার দুপুর ২টায় বিরল থানার সামনের সড়কে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ারুল ইসলাম রাসেলের মোটরসাইকেল আটক করে বিরল থানার এসআই নজরুল ইসলামসহ ৩ কনস্টেবল। এসময় মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ারুল ইসলাম রাসেলের বাক বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলটি আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।

এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিরল উপজেলা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী বিরল থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভে যোগ দেয় বিরল উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও। তারা ছাত্রলীগ সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে দোষী ৪ পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনার পর ওই চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার ঘোষণা দেন এবং আটককৃত মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ব্যাপারে বিরল থানার ওসি গোলাম রসুল জানান, মোটরসাইকেল চেকিং-এর সময় ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে ৪ পুলিশ সদস্যের ভুল বোঝাবুঝি হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে বিরল থানার একজন এসআই ও ৩ জন কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে।

দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে দিনাজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সদস্যদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ারুল ইসলাম রাসেল বিরল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ারুল ইসলাম রাসেল ও পুলিশের এসআই নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।