দুদক পরিচালককে ডিআইজি মিজানের ঘুষ দেওয়ার অডিও ফাঁস

নারী কেলেঙ্কারিসহ কয়েকটি অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।

ওই অডিওতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ সংক্রান্ত কথা মিলেছে। ডিআইজি মিজান বিষয়টি স্বীকার করলেও এনামুল বাসির অস্বীকার করেছেন। ডিআইজি মিজানের অভিযোগ, এনামুল বাসির তার থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ছয় মাস ধরে এনামুল বাসির ও ডিআইজি মিজানের মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথা-বার্তা হয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে ২৫ লাখ ও পরে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন মিজানুর। দুদকের পরিচালক এনামুল বাসির ডিআইজি মিজানুরকে জানান, তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারের চাপে তাকে অব্যাহতি দিতে পারেননি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর টাকা-পয়সা লেনদেনের সব কথা ফাঁস করে দেন। প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন এনামুল বাসিরের সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড।

রবিবার (৯ জুন) বেসরকারি টেলিভিন চ্যানেল এটিএন নিউজ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে।

এনামুল বাসির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডটি ভুয়া। এটি বানানো হয়েছে। আমি ডিআইজি মিজানের কাছে থেকে কোনও টাকা-পয়সা নিইনি। গত মাসের শেষ দিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেছেন, আমি খন্দকার এনামুল বাসিরকে স্যামসাং ব্রান্ডের একটি মুঠোফোন দিয়েছি। যেন এটা দিয়ে তিনি শুধু আমার সঙ্গে কথা বলেন। সিমটি আমার গাড়িচালক হৃদয়ের নামে তোলা ছিল। এতে আমাদের দুজনের মধ্যে কথা ও খুদে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।

গত জানুয়ারির শুরুর দিকে ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার এ অভিযোগ পাওয়া গেল।

মিজানুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রথমে তদন্ত করছিলেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেন পরিচালক এনামুল বাসির।