যে একক কৃতিত্ব শুধুই সাকিবের

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটাই যেন সাকিবের। ৬টি ম্যাচ খেলেছেন, এর মধ্যে ৩টি তে ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ। রান করেছেন ৪৪৭। এর মধ্যে ৫টি পশ্চাশোর্ধ ইনিংস। যে ম্যাচে অর্ধশতক করতে পারেননি সেটিতেও তার স্কোর ৪১। বৈশ্বিক আসরে এমন চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্স কজনার কাছ থেকে পাওয়া যায়।শুধু কি ব্যাট, বোলিংয়েও সমানতালে এগিয়ে চলেছেন বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার সাকিব। এই আসরে ১০ টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। শরীর ঠিক থাকলে আরও অন্তত দুটি ম্যাচ খেলবেন। তার ব্যাট-বলে যে ছন্দ তাতে এই আসরে নিজের অর্জনটা আরও ভারি করবেন এমন আশা সবার।

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভর করে সব বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবশেষ সোমবার রাতে সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানকে কুপোকাত করেছে বাংলাদেশ। এ জয়ের নায়কও সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচে দারুণ অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এদিন ৩২ বছর বয়সী সাকিব ব্যাট হাতে করেছেন ৫১ রান, আর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আফগানিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার কাজটি করেছেন সাকিবই। তার স্পিন বিষে নীল হয়েছে নবী-রহমত-আসগর-নাইব ও নাজিবুল্লাহর মতো ব্যাটসম্যানরা।

এই ম্যাচে অনন্য এক রেকর্ড করেছেন সাকিব, যেটি বিশ্বের আর কারো নেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের যুবরাজ সিংয়ের পর সাকিব আল হাসান একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করার পর ৫ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া এক বিশ্বকাপে আসরে চার শতাধিক রান ও ১০ উইকেট নেয়ার একক কৃতিত্ব শুধুই সাকিবের। এই কীর্তি আর কারো নেই।বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৬ ইনিংস খেলে সাকিব করেছেন ৪৭৬ রান। এর মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরি। এটিই এ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান। এদিন সাকিব অস্ট্রেলিয়ার পিন্স হিটার ডেভিড ওয়ার্নারকে (৪৪৭ রান) পেছনে ফেলেন।এমন পারফরমেন্সের পরও একক কৃতিত্ব নিয়ে চান না সাকিব। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলেন,দলের জয়ে নিজের ক্রেডিট নিতে নারাজ। দলগত পারফরম্যান্সকেই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ নিউক্লিয়াস, ‘বাংলাদেশ এখন আর ওয়ান ম্যান আর্মি নয়। অন্য সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা ভালো করছি।’