সালাহতে মুগ্ধ লিভারপুল, ‘মুসলিম’ হতে চান তারা! (ভিডিও)

লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর বর্তমান ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে চর্চিত নাম মোহামেদ সালাহ। তাকে নিয়েই এখন সর্বত্র আলোচনা। গেল শনিবার মাদ্রিদের ওয়ান্ডো মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে লিভারপুল।

টটেনহ্যাম হটস্পারকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছে অলরেডরা। এ নিয়ে ছয়বার ইউরোপসেরা দলের মুকুট মাথায় পরল তারা। সবশেষ ২০০৪-০৫ মৌসুমে শেষবার এ ট্রফি জেতে ওরা।

গেল মৌসুমে সার্জিও রামোসের বাজে ট্যাকলে চোট পেয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের মাঝপথে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন সালাহ। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে খেতাব হারানোর যন্ত্রণা এবার ভুললেন তিনি। তার পেনাল্টিতে করা গোলেই ম্যাচের ২ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যায় লিভারপুল।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সেই রাতে সালাহর জন্য গলা ফাটিয়েছেন ২০ হাজার লাল সমর্থক। মিসরের রাজার জন্য গান বেঁধেছিলেন তারা-‘সালাহ যদি আরও গোল করে তা হলে আমিও মুসলিম হয়ে যাব। সে যদি তোমার জন্য যথেষ্ট ভালো হয়, তা হলে আমার জন্যও ততটাই ভালো। এর পর একটা মসজিদে বসে আমিও মোহামেদ সালাহ হতে চাইব।

যারা সালাহর নামে জয়ধ্বনি দিয়েছেন, তাদের কেউ সালাহর গোলের পর স্ট্যান্ডে বসেননি। দাঁড়িয়ে থেকে সবসময় দুলছিলেন, সুর তুলেছেন।

সাইমন কার্টিস, ৩৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তি লিভারপুলের পাঁড় সমর্থক। তিনি বলেন, সালাহ অসাধারণ। তাকে কোনো দিন বিয়ার কিনতে হবে না। এ পরিবেশে একজন মুসলিমের পক্ষে থাকাটা সহজ নয়। কিন্তু সে ধারণাটাই বদলে দিয়েছে। গানের শেষ লাইনটা সেই তাৎপর্য বহন করছে। ও সব বাধা পেরিয়ে আমাদের গান গাওয়ার কারণ হয়ে গেছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ওর জন্য সেলিব্রেট করতে পেরেছি।

লিভারপুলের আরেক ভক্ত টেডি মে। এখন তার বয়স ৪৪। চার বছর বয়স থেকে অলরেডদের সমর্থক তিনি। টেডি বলেন, অতীতেও লিভারপুলে মুসলিম প্লেয়ার খেলেছে। কিন্তু সালাহ সবার চেয়ে আলাদা। একজন মেগাস্টার হয়েও অসম্ভব মাটির মানুষ। পরিবারের সঙ্গে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। মসজিদে যায়। আর পাঁচজনের মতোই মিসরীয় কিং।

২০১৭ সালে রোমা থেকে লিভারপুলে আসেন সালাহ। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২৭ কোটি রুপিতে তাকে দলে ডেরায় টানে রেডসরা। ফুটবল পণ্ডিতরা তার ইংলিশ ক্লাবটিতে আগমন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ইংলিশ প্রিমিয়র লিগে তারাই তাকে বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নেন। গেল বছরের সেরা তিন ফুটবলারের একজন দ্য ফারাওখ্যাত ফুটবলার। খোদ তাকে এ স্বীকৃতি দেয় ফিফা।