স্বামী বন কর্মকর্তা, স্ত্রী কাঠ ব্যবসায়ী

শেরপুরের এক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বনের কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার স্ত্রী জামালপুর শহরে কাঠ ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী। বন কর্মকর্তার স্ত্রীর প্রকাশ্য কাঠ ব্যবসা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বনের গাছ খেকো এই কর্মকর্তার অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থের একাংশ সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের পকেটে যাবারও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, শেরপুরের শ্রীবর্দীর বালিজুড়ির বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বনের গাছ কেটে রাতের অন্ধকারে জামালপুর শহরে তার মালিকানাধীন ‘স’ মিলে (কাঠ মিল) নেন। এসব গাছ চিরাই করে বিক্রি এবং তার নিজস্ব ফার্ণিচারের দোকানে নিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম শহরের স্টেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় সাজু নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন।

সম্প্রতি কাঠ ব্যবসার অর্থের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সাজুর সাথে তার বিরোধ হয়। অবশেষে সাজুর নামে করা ‘স’ মিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে নেন বন কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রী গুলবাহার জেরিনের নামে। অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ চরমে পৌছলে কাঠ ব্যবসায়ী সাজুকে হুমকি দেন বন কর্মকর্তা রবিউল। অবশেষে সাজু সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিস্পত্তি করতে স্থানীয় একটি চক্রের মাধ্যমে একাধিক বৈঠক করেন সাজুর সাথে।

অভিযোগ উঠেছে বন কর্মকর্তা তার অবেধ পথে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করেন। বন কর্মকর্তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলায়।

কাঠ ব্যবসায়ী সাজুর অভিযোগ, বন কর্মকর্তা তার সাথে কয়েক বছর ধরে ব্যবসা করছেন। শেরপুর, মধুপুর ও রাঙামাটি থেকে গজারী, একাশিয়া, কাঠালসহ বিভিন্ন সরকারি গাছ চোরাই পথে নিয়ে আসেন। ভোররাতে এসব কাঠ নামানো হয় ট্রাক থেকে। বন কর্মকর্তা ২১-০৫-১৮ তারিখে ‘স’ মিলটি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে লিখে নেন।

ভাড়া করা জমিতে দেড়লাখ টাকা জামানত দিয়ে মোঃ সাজু ‘স’ মিলের ওই জায়গাটি চুক্তি করেছিলেন। স্থানীয় টাউট বাটপারদের মাধ্যমে জামানতের টাকা ফেরত না দিয়েই ‘স’ মিলটি জোরপূর্বক লিখে নেন। এ নিয়ে কোন কথা বলতে নিষেধ করেন তাকে।

বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘স’ মিলটি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে। সেটি দেখভাল করেন তার স্বজনরা। বনের গাছ তিনি বিভিন্নজনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব দিয়ে কিনে নেন। অবৈধভাবে তিনি গাছ নেন না। কাঠ ব্যবসায়ী সাজুর সাথে তার ব্যবসা ছিল। এখন না থাকায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে অর্থ ব্যয় করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

বন খেকো রবিউল ইসলামের কাঠের ব্যসা বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।