ঢাকা, আজ বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জিয়ার জন্ম পাকিস্তানে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না

প্রকাশ: ২০১৯-১২-১২ ১৫:২৭:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-১২-১২ ১৫:২৮:০৯

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খু’নের ঘটনার সাথে জিয়া সরাসরি জড়িত ছিলেন। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে এ কারণে তার ফাঁসি হতো।

 

 

 

 

 

আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চান্দিনা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, জিয়া বঙ্গবন্ধু হ’ত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তাহলে অন্যান্য খু’নিদের মতো তারও ফাঁসি হতো। মৃত মানুষের বিচার হয় না। এ জন্য জিয়া ও মোস্তাকদের বিচার হয়নি। বেঁচে থাকলে তারও বিচার হতো।

 

 

 

 

 

 

তিনি আরো বলেন, জিয়া বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। তার জন্ম পাকিস্থানে। তার বাবা-মায়ের কবরও পাকিস্তানে। তিনি পাকিস্তানের ঠিকানাতেই সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। আর যুদ্ধ করেছেন পাকিস্তানের ‘স্পাই’ হয়ে।

শেখ সেমিল বলেন, ৭১’র ৫ মে মেজর আসলাম বেগ চিঠি দিয়ে জিয়াকে লিখেন- ‘তোমার স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো চিন্তা করো না, তোমার কর্মকাণ্ডে আমরা খুশি। তোমাকে নতুন কাজ দেওয়া হবে। তুমি মেজর জলিল থেকে সাবধান থেকো’। ওই চিঠির মানে কি দাঁড়ায়? তিনি স্পাইং করতেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের খবরাখবর তিনি পাকিস্তানে পাঠাচ্ছিলেন।

 

 

 

 

 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, আদালতে বিএনপির আইনজীবীদের হট্টগোল নজিরবিহীন ঘটনা। শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোনো দেশেই প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এমন হট্টগোলের নজির নেই।

 

 

 

 

 

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শেখ সেলিম এমপি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল আউয়াল সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইন মন্ত্রী অ্যাড. আব্দুল মতিন খসরু, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামূল হক শামীম এমপি, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আবদুস সবুর।

 

 

 

 

 

 

 

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এম. হুমায়ূম মাহমুদ এর সঞ্চালনায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অ্যাড. নিজামুল হক, সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠ করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি, সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি, রাজি মোহাম্মদ ফখরুল মুন্সি এমপি প্রমুখ।বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বৃহস্পতিবার দলীয় চেয়ারপারসনের জামিন না হলে এক দফা আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না হাইকমান্ড। তাই বেশ জোরেশোরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

 

 

 

 

 

 

 

গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির পর থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে কঠোর আন্দোলনের বিষয়ে তৃণমূলের চাপে রয়েছে বিএনপি। অন্য দিকে আগামী শুনানিতে বেগম জিয়ার জামিন না হলে আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না দলটি।

দলীয় প্রধানের মুক্তি ও আন্দোলন বিষয়ে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দলের স্থায়ী কমিটি। গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এর মূল এজেন্ডা ছিল বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন। আন্দোলনের বিষয়ে তৃণমূলের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। সম্প্রতি আলোচনা ও যৌথ সভায় তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এক দফা আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন হাইকমান্ড। আন্দোলন সফল করতে মধ্যম সারির কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শরিকদেরও সমর্থন থাকবে। তবে আন্দোলনের ধরন কী হবে, তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো কোনো আন্দোলন রাজপথে দৃশ্যমান হয়নি। শুধু পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষে মানববন্ধন, অনশন ইত্যাদি কর্মসূচি দেয়া নিয়ে দলের মধ্যে নানা সমালোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিনের মূল বাধা সরকার- এ বিষয়টি এখন ভালোভাবে উপলব্ধি করে নীতিনির্ধারকরা এক দফা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

 

আরও জানা গেছে, এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার আগে দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের বৈঠক ডাকবে বিএনপি। তবে বৈঠকের আগেই ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য দুই জোটের কয়েকটি শরিকের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আমারা এখন আন্দোলনের মধ্যেই রয়েছি। ছোট হোক বড় হোক বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মসূচি চলছে। এখন কর্মীরা খুবই বিক্ষুব্ধ কাজেই ১২ ডিসেম্বর কি হয় সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেখে তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিব।

 

 

 

 

 

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জনশক্তির যে চাপ সেটি যদি রাস্তায় নেমে আসে তখন সরকার বা কোন গোষ্ঠী তার সামনে দাঁড়াতে পারে না। যেমন মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সফলতা এসেছে। বাঙ্গালী সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে। আগামী দিন সরকার কি পদক্ষেপ নিবে তার ওপর তো প্রতিক্রিয়ায় যেতে হবে। এখন যদি সরকারের পদত্যাগ হয়, শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত। তাহলে মীমাংসা হয়ে গেল সহজ ভাবে আর যাদি তা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বলে দিবে তখন কি করতে হবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, মূলত জনগণকে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখার জন্যই খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একজন সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী খালেদা জিয়াকে আটক রেখে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা ২০ দলীয় জোট খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আগেও যেমন ছিলাম এখনো আছি। জটিল সমস্ত শরিকদলগুলো খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একমত। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যদি কোন আন্দোলন আসে সেখানে আমাদের উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে আগেও আমাদের সহযোগিতা ছিল এখনো থাকবে।

 

 

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্ট নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কী ধরনের আন্দোলন করবে, তা আমাদের এখনও জানায়নি বিএনপি। যদি জানায়, আমরাও এ নিয়ে আলোচনা করব। খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরাও চাই। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি দিলে জনগণের সমর্থন পাবে, আমাদেরও সমর্থন পাবে।