ঢাকা, আজ বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশি ক্যান্সার রোগীর টাকা ছিনিয়ে নিলো কলকাতা পু’লিশ

প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৮ ০১:৪৩:০৭ || আপডেট: ২০১৯-১২-১৮ ০১:৪৩:২৬

বাংলাদেশি ক্যান্সার রোগীর – ভোররাতে ট্যাক্সি আ’ট’কে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অ’ভিযোগ উঠল কলকাতা পু’লিশের বি’রুদ্ধে। চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গে যাওয়া বাংলাদেশের নাগরিক গোলাম সাকলাইন এবং মহম্ম’দ মোশারফের এমনই অ’ভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলালির মোড়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আনন্দবাজার জানিয়েছে, ট্রেন ধ’রার জন্য শিয়ালদহ স্টেশনে যাচ্ছিলেন তারা। সেই সময় এক পু’লিশকর্মী ট্যাক্সি আ’ট’কে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ওই টাকা কেড়ে নেন বলে অ’ভিযোগ করেছেন তারা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পু’লিশ সূত্রে পত্রিকাটির খবর, নভেম্বর মাসের ২১ তারিখে ঘটলেও ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে। এদিন গোলাম সাকলাইন এবং মহম্ম’দ মোশারফ গোটা বিষয়টি কলকাতার পু’লিশ কমিশনার অনুজ শর্মা এবং যুগ্ম কমিশনার (অ’প’রাধ) মুরলিধর শর্মাকে ইমেল করে অ’ভিযোগ জানান। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।

 

 

 

 

 

 

 

দুই পু’লিশ ক’র্তার কাছে জানানো অ’ভিযোগে সাকলাইন এবং মোশারফ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তারা ভারতে এসেছিলেন। ক্লোন ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে মোশারফ গিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে অ’স্ত্রোপচারের পর তিনি কলকাতায় আসেন গত ২০ নভেম্বর। পরের দিন অর্থাৎ ২১ তারিখ ভোর ৪টা ২০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে গেদে যাওয়ার ট্রেন ধ’রার কথা ছিল মোশারফের। তাই তিনি ওই দিন ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হোটেলের ঠিক করে দেওয়া একটি ট্যাক্সিতে আত্মীয় গোলাম সাকলাইনকে সঙ্গে নিয়ে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা হন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের গাইবান্দার বাসিন্দা মোশারফের অ’ভিযোগ, ওই দিন ভোরে ট্যাক্সি মৌলালির মোড় থেকে শিয়ালদহের দিকে বাঁ দিকে ঘোরামাত্র এক পু’লিশকর্মী ট্যাক্সি দাঁড় করানোর নির্দেশ দেন। ওই ব্যক্তির পিছনেই ছিল ‘পু’লিশ’ লেখা ভ্যান। ওই পু’লিশকর্মী ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে মোশারফ এবং সাকলাইনের কাছে তাদের পরিচয় জানতে চান। মোশারফ বলেন, পরিচয় দিতেই ওই পু’লিশকর্মী আমাদের কাছে পাসপোর্ট দেখতে চান। পাসপোর্ট দেখিয়ে তাকে জানাই যে, আমি ক্যান্সার রোগী। চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলাম মুম্বাই। রাজশাহীর বাসিন্দা সাকলাইনের অ’ভিযোগ, এর পরেই আমাদের ভয় দেখাতে শুরু করেন ওই পু’লিশকর্মী যে, আম’রা কলকাতায় ছিলাম তা পু’লিশকে জানাইনি কেন? মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে হোটেলে আম’রা উঠেছিলাম, সে কথাও বলি ওই পু’লিশকর্মীকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অ’ভিযোগ, এর পর ওই পু’লিশকর্মী জিজ্ঞাসা করেন তাদের সঙ্গে কত টাকা আছে? গোলাম সাকলাইন বলেন, ২৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা ছিল আমাদের সঙ্গে। ওই পু’লিশকর্মী আমাদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়ে নেন। মোশারফের অ’ভিযোগ, টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত চাইলে খাকি পোশাক পরা ওই পু’লিশকর্মী আমাদের ভয় দেখান থা*নায় নিয়ে লক আপে আ’ট’কে রাখার। সাকলাইন বলেন, ওই পু’লিশ কর্মী মোশারফের পেটের নীচে অ’পারেশনের জায়গায় ব্যান্ডেজ টিপে টিপে দেখছিলেন। আমি প্রতিবাদ করায় পাল্টা আমাদের থা*নায় নিয়ে গিয়ে মা’দকের মা’মলা দিয়ে গ্রে’ফতার করার ভয় দেখান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এ দিন মোশারফ বলেন, আমি হাত জোড় করে ওই পু’লিশকর্মীকে টাকা ফেরত দিতে বলি। তাকে বলি, টাকা বেশি না থাকায় অ’স্ত্রোপচারের পরে কেমোথেরাপি করতে পারিনি। দেশে ফিরে টাকার জোগাড় করে ফের আসব। অ’ভিযোগ, অনেক কাকুতিমিনতি করার পর ২৭ হাজার টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা আর পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে ফের ওই পু’লিশকর্মী দুই বাংলাদেশিকে শাসান, কাউকে কিছু জানালে ফল ভাল হবে না। বাকি ২০ হাজার টাকা ওই পু’লিশকর্মী রেখে দেন বলে অ’ভিযোগ। সাকলাইন বলেন, আম’রা সে দিন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তাই সে দিনই গেদে সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে যাই। রোববার ফের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসি। এক বন্ধুকে গোটা ঘটনার কথা জানাই। তার পরাম’র্শেই ইমেইল করে জানিয়েছি কলকাতা পু’লিশকে।

 

 

 

 

 

মোশারফ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালেই কেমোথেরাপির জন্য মুম্বইতে চলে যাবেন। তিনি বলেন, আম’রা অসংখ্য বাংলাদেশি মানুষ চিকিৎসা এবং ব্যবসার প্রয়োজনে কলকাতায় আসি। কলকাতা পু’লিশের ভরসাতেই রাস্তাঘাটে নির্ভয়ে ঘোরাফেরা করি। আমা’র একটাই আবেদন, তারা যেন ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে শা’স্তি দেন।