ঢাকা, আজ বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভোটযুদ্ধ তাবিথ আউয়াল এগিয়ে

প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৯ ১২:৫৩:৫৫ || আপডেট: ২০১৯-১২-২৯ ১২:৫৩:৫৫

ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনে আওয়ামী লীগ আজ প্রার্থীতা চূড়ান্ত করেছে। বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামকেই তাঁরা আবার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবয়ব স্পষ্ট হয়ে গেল। এই নির্বাচনে অনেকগুলো দল অংশগ্রহণ করবে সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তবে ঢাকা উত্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের সাথে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের। এই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে জিতবেন সেটা বোঝা যাবে ৩০ শে জানুয়ারির নির্বাচনে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্তর পরপরই যদি ভোটের হিসেবনিকেশ করা যায় তাহলে দেখা যাবে যে, ঢাকা উত্তরে বিএনপির প্রার্থী যিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তাবিথ আউয়াল খানিকটা এগিয়ে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করছেন। আর আতিকুল ইসলাম কিছুটা পিছিয়ে থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। যে কারণে তাবিথ আউয়ালকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তার প্রধান কারণ হল-

১. আতিকুল ইসলামের বিগত ৯ মাসের ব্যর্থতা

আতিকুল ইসলাম প্রায় ৯ মাস ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঢাকা উত্তরের মেয়র হিসেবে প্রথমে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আনিসুল হক। আনিসুল হক একটি আধুনিক-উন্নত ঢাকা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তিনি এই স্বপ্নের পথে হাঁটছিলেন। জনগণ তাঁর ব্যাপারে আশান্বিত হয়েছিল এবং বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে, চাইলে করা যায়। আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর পর শূন্য পদে আতিকুল ইসলামকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত আনিসুল হকের ধারেকাছেও হাঁটতে পারেননি। তাকে নিয়ে জনগণের মধ্যে একধরনের হতাশাও রয়েছে। তারপরেও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তাকে আরেকবার সুযোগ দিয়েছে তাঁর আন্তরিকতা আর চেষ্টা আছে বলে। কিন্তু ভোটের মাঠে অবশ্যই আতিকুল ইসলামের ৯ মাসের কর্মকাণ্ড হিসেবনিকেশ করবে ভোটাররা এবং সেই হিসেবনিকেশে তিনি কিছুটা পিছিয়ে থাকবেন।

২. আনিসুল হকের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা

তাবিথ আউয়াল গত নির্বাচনে আনিসুল হকের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং নির্বাচনের প্রায় শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভোট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু স্বল্পতম সময়ে নির্বাচনে থাকা বিএনপির এই প্রার্থী যে ভোট পেয়েছিলেন তা রীতিমত বিস্ময়কর এবং শেষ পর্যন্ত যদি তাবিথ আউয়াল প্রার্থীতা ধরে রাখতেন এবং সরে না দাঁড়াতেন তাহলে হয়তো উত্তরে সে সময় একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো। সেই নির্বাচনের ফলাফল যে কারো পক্ষে যেতে পারতো। তাই তাবিথ আউয়াল গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারে নির্বাচন করছেন সে বিবেচনায় তিনি ভোটের মাঠে আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৩. তাবিথ আউয়ালের হোমওয়ার্ক

গত ১০ বছর ধরেই তাবিথ আউয়াল এবং তাঁর বাবা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য নানান হিসেবনিকেশ করছেন। বিশেষ করে কোথায় কোথায় কি ধরণের ভোটার কিংবা কি ধরণের সমস্যা রয়েছে সে বিষয়ে ভালো হোমওয়ার্ক রয়েছে। সেই হোমওয়ার্কগুলো কাজে লাগিয়ে তাবিথ নির্বাচনের মাঠে তাঁর প্রতিপক্ষকে ভালো বিপদে ফেলতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৪. নোয়াখালীর ভোট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটা অন্যতম ফ্যাক্টর হচ্ছে নোয়াখালীর ভোট। তাবিথ ঢাকার মেয়র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জন্মসূত্রে নোয়াখালীর বাসিন্দা। আর নোয়াখালীর ভোট একাট্টা করতে শুরু থেকেই তাবিথ চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫. সরকারের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ঠিক সুবিধা করতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, পেঁয়াজের মূল্যসহ নানা আর্থসামাজিক সমস্যা জনগণের সামনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আর এ সমস্ত বিষয়গুলো ঢাকা উত্তরের সচেতন ভোটাররা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং ঢাকা উত্তরের ভোটে রাজনৈতিক দল এবং সরকারে কে আছেন সেটা একটি বড় বিবেচ্য বিষয় হয়। আর সেই বিবেচনা থেকে আতিকুল ইসলামের থেকে তাবিথ আউয়াল এগিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে ভোটের এখনো অনেক দেরি, অনেক ঘটনা প্রবাহই নির্বাচনের আগে ঘটবে। অনেক এক্স ফ্যাক্টর ভোটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেই সমস্ত সার্বিক বিবেচনা থেকে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে সেটা বোঝা যাবে ৩০ শে জানুয়ারি ভোটের দিন। তবে তাবিথ আউয়াল যে একটু এগিয়ে থেকেই ভোটযুদ্ধ শুরু করছেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।নিউজ ডেস্ক: আজ (২৯ ডিসেম্বর) রবিবার সকাল ১১টার দিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম ঘোষণা করা হয়।

এরপরই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। আজ দুপুরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের মিডিয়া সমন্বয়ক তারেক শিকদার বলেন, কিছুক্ষণ আগে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।