Monday, May 27News That Matters

এবার পোশাক পেল সেই মোস্তফা ও খাদিজা

নতুন পোশাক পরে না আসায় বই না পাওয়া মোস্তফা ও খাদিজাকে সমালোচনার মুখে নতুন বই দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ; এবার তারা নতুন পোশাকও পেয়েছে।

সিলেট নগরীর উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ দুই শিক্ষার্থীকে রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক প্রতিনিধি তাদের বাসায় গিয়ে নতুন পোশাক তুলে দেন। নতুন পোশাক পেয়ে এ সময় তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে। কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে।

গত পহেলা পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের দিন নতুন বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোস্তফা ও খাদিজাও। নতুন পোশাক পরে না আসায় ওই দুই শিশুকে বই না দিয়ে খালি হাতে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ।

পুরাতন পোশাক পরে আসায় নতুন বই না পাওয়া কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে পহেলা জানুয়ারি অনলাইনে ‘নতুন পোশাক না থাকায় শিশুদের নতুন বই দিল না স্কুল!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ছবি দেখে স্কুল শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা ও খাদিজাকে সহায়তার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরদিন ‘নতুন ড্রেস না থাকায় বই পেল না শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সমকালের প্রিন্ট সংস্করণেও।

সমকালে প্রকাশিত খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ২ জানুয়ারি দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মুনতাকিন, সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোমান মিয়া ও দিপীকা রায় স্কুল পরিদর্শন করেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিশুদের ডেকে নিয়ে তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়।

এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ওই দুই শিশুর পোশাকের মাপ নেওয়া হয়। রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতিনিধি হামজা রহমান অন্তর তাদের জন্য ঢাকা থেকে পোশাক নিয়ে আসেন।

হামজা প্রথমে তিনি শিশুদের বাসায় যান। পরে ওই শিশুদের নিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যান। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এধরনের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হাসান নাজমুল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মফিকুল ইসলাম কানন, মাহদি ইমাম রিফাত প্রমুখ।

এ ব্যপারে হামজা রহমান অন্তর সমকালকে বলেন, সমকালে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তাকে ডেকে নিয়ে ওই শিশুদের পোশাকের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে পোশাক ও কিছু ফল নিয়ে শিশুদের বাসায় যান তিনি।

খাদিজা দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম হয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে উঠেছিল। তবে এবার সে স্কুলের মেধাতালিকায় ১৫ নম্বরে স্থান পেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেছে। অন্যদিকে গোলাম মোস্তফা স্কুলের মেধা তালিকায় ৩৩ নম্বর হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাদিজা ও গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে মামা-ভাগনী। খাদিজার বাবা ছোট মিয়া এক হাত নেই বলে তিনি স্বাভাবিক কাজ করতে পারেন না। অন্যদিকে মোস্তফার বাবা বদরুল ইসলাম পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ফলে তাদের মায়েরা বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।

খাদিজার মা খায়রুন জানিয়েছেন, তিনি নগরীর উপশহরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোয়ার্টারে দুই কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন। গোলাম মোস্তফার মা ফরিদাও এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন।

আনার মন্তব্য দিন