Monday, May 27News That Matters

পুলিশের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা । প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সব দাবি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—আজীবন পেনশন সুবিধা, বিশেষ ভাতা, ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন, আলাদা মেডিকেল কলেজ ও কোর ইত্যাদি ।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে গত সোমবার এই সভা হয়। সেখানে বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাবি উত্থাপন করেন পুলিশ সদস্যরা। সভায় পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ সভায় কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা কথা বলেন। সভায় পুলিশ সদস্যরা আজীবন রেশনের দাবি করেন। তাঁরা বলেন, এখন প্রত্যেক পুলিশ সদস্য সর্বোচ্চ চার সদস্যের জন্য রেশন পেয়ে থাকেন। তাঁরা মনে করেন, অবসরে যাওয়ার পর যেহেতু তাঁদের কর্মক্ষমতা কমে যায়, সে সময়ও তাঁদের রেশন প্রয়োজন। অবসরের পর কমপক্ষে দুজনের রেশন দাবি করেছেন তাঁরা।

প্রচলিত নিয়ম অনুসারে পুলিশ সদস্যরা রেশন হিসেবে চাল, ডাল, তেল, আটা ও চিনি পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রী, এক সন্তানসহ কারও পরিবারের তিন সদস্য হলে মাসে ৩০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ৫ কেজি ডাল, ৬ লিটার তেল ও ৪ কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। কারও পরিবারের সদস্য স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন হলে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ৮ লিটার তেল ও ৫ কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রীসহ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য রেশন–সুবিধা দেওয়া হয়।

রেশন–সুবিধা ছাড়াও অভিযানে কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের জন্য ১৫ লাখ টাকা ভাতা চান পুলিশ সদস্যরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা যে ভাতা পান, তা অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনায় কম। দায়িত্ব পালনকালে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবার আট লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পান। আর কর্মরত অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হলে তাঁরা পান চার লাখ টাকা। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মারা গেলে পাঁচ লাখ টাকা পান। অন্য কারণে মৃত্যু হলে কোনো ভাতা পান না।

এ ছাড়া পুলিশের বিভিন্ন পদে কর্মরত সদস্যদের নতুন স্কেলে ভাতার দাবি জানানো হয়েছে। সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, বিউগল বাদক, গাড়িচালক, অশ্বারোহীরা এখনো ১৫–২০ টাকা হারে ভাতা পান। এর পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচনার কথা জানান। পুলিশের উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শকদের মোটরসাইকেল নেই। প্রতি আটজনের জন্য মোটরসাইকেল আছে একটি। তাঁদের যাতায়াত ভাতা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে গতকালের কল্যাণ সভায়।

সভার শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক নারী কনস্টেবল প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি তুলে ধরে বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে পুলিশের অনেক সফলতা রয়েছে। কিন্তু পুলিশের কোনো ক্রীড়া কমপ্লেক্স নেই। তিনি একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাবি মেনে নিয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য জমি দেখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন।
এর আগে সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের আদলে পুলিশ মেডিকেল কোরের দাবি করেছিল। সেটির বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

কল্যাণ সভায় উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, সভায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিটি দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবিগুলো শুনে বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন। এর মধ্যে আজীবন পেনশনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আনার মন্তব্য দিন