Monday, May 27News That Matters

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন বিএনপির সাবেক এমপির পুত্র!

অর্ধশত মানুষ হত্যার ঘটনায় হামলাকারীর কী শাস্তি হতে পারে সে বিষয়ে আইনজীবী ও কৌসুলীদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষকে হত্যার কারণে তার সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যৃদণ্ড) হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন অনেক আইনজ্ঞ। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় ব্রেনটনের সাজা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে দেয়া হয় ১৯৮৯ সালে। দেশটিতে সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় যাকে তার নাম ওয়াল্টার বোল্টন। স্ত্রীকে বিষপানে হত্যার দায়ে ১৯৫৭ সালে তাকে এই দন্ড দেয়া হয়।এর আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে ৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এখানে যত বড় হত্যাকাণ্ডই হোক তার শাস্তি সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই কারাদণ্ডের মেয়াদ কত হবে – ‘সেনটেনসিং অ্যাক্টে’র মাধ্যমে তা ঠিক করেন বিচারক।

হত্যার জন্য দুই ধরনের সাজা হয়ে থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড ও স্বল্পমেয়াদে কারাদ-। দীর্ঘ মেয়াদে ৩০ বছর সাজা হয়েছে উইলিয়াম ডোয়েন বেল নামে একজনের, তিনজনকে হত্যার দায়ে।এরপর অনেকের সাজা হয়েছে ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আর স্বল্পমেয়াদে সাজা হলে প্যারেল সিস্টেমে সে সাজা ভোগ করতে হয়। যে সব অপরাধারীর অতীত ক্রিমিনাল রেকর্ড নাই, তাদের নির্দিষ্ট একটি সময় কারাগারে রাখার পর ছেড়েও দেয়া হয়। অবশ্য তাদের হাতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগানো থাকে।এদিকে আল নূর মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ওমর জাহিদ মাসুম (৩৪)।

বন্ধু-স্বজন ও সহপাঠীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েন। এ সময় একটি গুলি তার পেটের মাংশ স্পর্শ করে চলে গেলে তিনি মৃত্যুর ভান করে অন্যান্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মুসল্লিদের রক্তাক্ত লাশের স্তূপের আড়ালে সটান পড়ে থাকেন।দীর্ঘ সময় নির্জীব থাকার পর এক পর্যায়ে পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয় তার।একইদিন রাতে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামের বিএনপির প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান দয়াল ও মমতাজ বেগম দম্পতির কনিষ্ট পুত্র ওমর জাহিদ মাসুম।মাসুমের বড় ভাই অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল ও ভগ্নিপতি সানাউল্লাহ জানান, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও সন্ত্রাসী হামলার সেই ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মাসুমকে।

আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বর্বরোচিত ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিতে গিয়েও বারবার আঁৎকে ওঠছেন। মুসল্লিদের লাশের মিছিল যেনো দেয়াল তৈরি করে তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছে।চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাসুম নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসায় স্বজনরা শুকরিয়া আদায় করছেন, করছেন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন।জানা গেছে, মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) তে উ”চতর ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্টুডেন্ট ভিশায় নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে ওমর জাহিদ মাসুম। পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পান তিনি।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে সস্ত্রীক বসবাস করেন মাসুম।মাসুমের স্বজনরা জানায়, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় কিশোরগঞ্জ জেলার অনেক মানুষ বসবাস করছেন। তারা প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় উপলক্ষে তারা আল নূর মসজিদে মিলিত হয়ে থাকেন।
বিয়ে বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের হরিনারচর গুচ্ছ গ্রামের ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে আহতদের মধ্যে ১৩ জন বর পক্ষের এবং ৬ জন কনে পক্ষের। আহতদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহতরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে হরিনারচর গুচ্ছ গ্রাম এলাকার বাসিন্দা হান্নান মৃধার ছেলে জান্নাতুল মৃধার (২২) সঙ্গে ওহিদ মিয়ার মেয়ে রিনা আক্তারের (১৬) বিয়ে হয়। ওইদিন বরপক্ষ এলে বিয়ের গেটে টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরে শুক্রবার মেয়েপক্ষ ছেলের বাড়িতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে ছেলের আত্মীয় শাহ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ে পক্ষের টিটুকে মারধর করেন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হলের কক্ষে সন্তান প্রসব, ট্র্যাংকে লুকিয়ে হাসপাতালে মা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হলের কক্ষে নবজাতক প্রসব করেছেন এক ছাত্রী। পরে নবজাতকটিকে নিজের ট্র্যাংকে তালা মেরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। এরপর ট্র্যাংক থেকে কান্নার শব্দ এলে তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে নবজাতকের মা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে নিজের ট্র্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। তার রুমমেট রুমে এলে শুধু প্রসব বেদনার কথা জানান। ছাত্রীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানান। চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স এসে তাকে এনাম মেডিকেলে নিতে বললে সিকগার্লদের সহায়তায় ওই হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান ছাত্রীরা। খোঁজাখুঁজি করে ট্র্যাংকের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সময় নবজাতকের শরীর নীলচে আকার ধারণ করে। পরে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।’ওই হলের প্রাধ্যক্ষ জানান, ‘ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ছাত্রীরা যখন বলছিলো ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তখন ৪২৬ নম্বর রুমে গিয়ে ট্র্যাংকের তালা ভেঙে বাচ্চাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যাই। রাত পৌনে ১০টার দিকে বাচ্চাটি মারা যায়। তবে বাচ্চার মা ওই ছাত্রী আশঙ্কামুক্ত।’

প্রাধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘তথ্য গোপন করে মেয়েটি অপরাধ করেছে। এই ঘটনা তদন্তের জন্য হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আনার মন্তব্য দিন