আমি বলতে বলতে এখন ক্লান্ত হয়ে গেছি : শামীম ওসমান

banglarjay1banglarjay1
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:00 AM, 18 June 2020

নারায়ণগঞ্জ থেকে : ভিডিও কনফারেন্সে গত ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দে’শনার পর নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাসপাতালটিতে ৪০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ১০ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটিতে শুরু হয় করোনা রোগী ভর্তি কার্যক্রম। কিন্ত দীর্ঘ এই সময়ে চালু হয়নি আইসিইউ। আর তা চালু করাতে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিকবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দে’শনার প্রায় দুই মাস হতে চলছে। এখনো চালু হয়নি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আইসিইউ। এ নিয়ে প্রভা’বশালী এই নেতার অসহায়ত্ব ও ক্ষো’ভ প্রকাশ পায় গণমাধ্যমের কাছে দেয়া এক প্রতি’ক্রিয়ায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষো’ভ প্রকাশ করে আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, রীতিমত ক্লান্ত হয়ে গেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফোন করতে করতে। কমপক্ষে অর্ধশতাধিকবার আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছি। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছিল আগামী ১ জুনের মধ্যে আইসিইউ চালু করা হবে। যদিও গত ১৭ মে চালু করার চূড়ান্ত নির্দে’শনা ছিল। কিন্তু এখন জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমার কিছু বলার নাই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নির্দে’শ দেয়ার পরও যদি এতো দেরি হয়, সেখানে কি বলার আছে। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি নাই-বা পারবেন তাহলে মিথ্যা আশ্বাস দিবেন কেনো? আপনাদের কথার উপর নির্ভর করে তো আমরা মানুষকে আশ্বাস দেই। একটা রোগীর মৃত্যু যদি আইসিইউর কারণে হয়ে যায়, তখন আমরা নিজেকে নিজের কাছে ক্ষমা করতে পারছি না।

নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করে শামীম ওসমান বলেন, আমি বলতে বলতে এখন টায়ার্ড হয়ে গেছি। রোগী আনা নেয়ায় ব্যবহৃত দুইটা অ্যাম্বুলেন্সের টাকা আমি দিচ্ছি। স্যাম্পল কালেকশনের জন্য আমার ৫ জন লোক কাজ করছে। তাদের খরচ আমি দিচ্ছি। সব ধরনের সহযোগিতা করছি শুরু থেকে। কিন্তু তারপরও মানুষ যদি তার প্রাপ্য সেবাটা না পায়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫০টি বেড রয়েছে। সেখানে ১০টা আইসিইউ আছে। সরকারি নির্দে’শনা রয়েছে, বেসরকারি প্রতিটা হাসপাতালকে করোনা আক্রা’ন্ত রোগী ভর্তি করতে হবে। অথচ এখন পর্যন্ত প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগী ভর্তি করছে না। রোগী ভর্তি করতে হবে। প্রশাসন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যাদের উপর নির্দে’শনা আছে তারা কেনো তাদের বি’রু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সে ব্যাপারে আমি যথেষ্ঠ স’ন্দিহান।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি তারা করোনা রোগী ভর্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই ওই হাসপাতালে যাবো এবং প্রয়োজন হলে ওই হাসপাতালের বি’রু’দ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার আমি ব্যবস্থা নিবো। সরকার যেখানে করোনা রোগী চিকিৎসার জন্য অর্থ দিচ্ছে সেখানে তারা কেনো করোনা রোগীর চিকিৎসা দিবে না? সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মাত্র ৪টা আইসিইউ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দে’শে গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০ শয্যার করোনা হাসপাতাল হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। সেখানে ৪০টি আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড থাকার কথা। করোনা হাসপাতাল হিসেবে চালুর ২ মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আইসিইউ ইউনিট চালু না হয়নি এখনও।

অবশ্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেছেন, আমরা আসলে আপনাদের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসীকে এমনভাবে আশ্বস্ত করতে চাই না। কারণ, আমরা প্রতিনিয়িত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগযোগ রাখছি, তারা আমাদের আশ্বস্ত করেন বলেই সেই কথায় আমরাও আশ্বস্ত করি। ১০ বেডের একটি আইসিইউ শুধু মাত্র ১০টি বেড ও কিছু আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের জন্য চালু করা যাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, যতটুকু শুনতে পেরেছি বেডের স্বল্পতা ছিল এবং নতুন বেড আনা হয়েছে এবং সেগুলো এয়ারপোর্টে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :