মাজারে সস্ত্রীক যাওযার খুব বাসনা আছে, যদি বেঁচে থাকেন।

banglarjay1banglarjay1
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:14 AM, 19 July 2020

বৃদ্ধ অবেদ আলী জানান, এক সময় ইটভাটায় কাজ করতেন। তাদের সরদার একদিন তার মা বাবাকে তুলে অকথ্য ভাষায় গালী দিলে রাগ করে তিনি কাজ ছেড়ে চলে আসেন। বাড়িতে এসে চিন্তা করেন স্বাধীন পেশা বেছে নেয়ার। সে থেকেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়েছেন। এই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তাদের চেহারায় নেই কোনো ক্লান্তির ছাপ। তবে তাঁর জীবনে একটি আশা আছে- আজমীর শরীফ হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি (র.) এর মাজারে সস্ত্রীক যাওযার খুব বাসনা আছে, যদি বেঁচে থাকেন। এ জন্য কিছু টাকাও ধীরে ধীরে সঞ্চয় করে যাচ্ছেন।

স্ত্রী শরুফা বেগম জানান ৪৫ বছরের বৈবাহিক জীবনে তারা সম্পদহীন হলেও সুখি পরিবার। স্বামীর অভাবী সংসারে তিনিও এক লড়াকু সৈনিক। সুখ তারা খোঁজেন না, এই নিয়তিতেই সন্তুষ্ট তাঁরা। তবে তাঁদের স্বপ্ন নাতী আর নাতনীদের সুশিক্ষিয় শিক্ষিত করা। তারা তাদের দুর্দশার কথা কাউকে বলতে চান না। দু’ বছর আগে তাঁর স্বামী একটি বয়স্কভাতার কার্ড পেয়েছেন।

গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া অগনিত মানুষের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ এই দম্পতি। সকালে পান্তাভাত, কাঁচা পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ পেটপুরে খেয়ে বেরিয়ে পরেন। দুপুরে চিনি ছাড়া রং চা আর রুটি-কলা, রাতে মোটা চালের ভাত তাদের প্রতিদিনের খাবার।

আবেদ আলী বয়স্ক হলেও অতি রসিক মানুষ তিনি। প্রচণ্ড মনোবল নিয়ে বলেন, আপনাদের চেয়েও আমার শরীরে শক্তি বেশি। আমি কোনো ওষুধ খাই না। মাঝে মাঝে শরীর ব্যাথা করলে লতাপাতা ছেঁচে রস খাই, ঝামেলা শেষ। তিনি আরো জানান, গৌরনদী উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পথঘাট, অলি-গলি সব তার চেনা জানা। এমনকি অনেক বাড়ির গ্রাম্য গৃহ বধুদেরকেও তিনি চেহারায় চেনেন। যতদিন বিধাতা বাঁচিয়ে রাখেন ততদিন কারো মুখাপেক্ষি না হওয়ারই বাসনা তাঁর। যদিও বয়স অনুযায়ী প্রায় অসম্ভব এই কাজ করছেন জীবন-জীবিকার তাগিদে। এ এক অসম প্রতিভা এক ব্যতিক্রমী বাস্তব গল্প। প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় আবেদ আলী দম্পতি প্রমান করেন সম্পদ ছাড়াও সুখে থাকা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :