এক সময় ইটভাটায় কাজ করতেন

banglarjay1banglarjay1
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:16 AM, 19 July 2020

জ সকালে স্ত্রী শরুফা বেগম আর তিন চাকার অচল ভ্যানটি নিয়ে ছোটেন গ্রামের পর গ্রাম। ৩০ বছরের দিনলিপিতে প্রতিদিন হাটতে হয় ৮ থেকে ১০ মাইল। ডাব বা নারকেল পারার জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩০টি নারকেল গাছে ওঠেন বৃদ্ধ আবেদ আলী। এ গ্রাম সে গ্রাম ঘুরে ৫০ থেকে ৬০টি ডাব নারকেল কিনে এনে বিভিন্ন বাজার কিংবা বাসস্ট্যান্ডে বিক্রি করেন। কোনদিন সন্ধ্যা কোনদিন রাতে বাড়ি ফেরেন। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ শ টাকা আয় করে ফিরেন আপন নীড়ে। ৩০ বছরে কোনদিন কোনো দুর্ঘটনায় পড়েননি। যতদিন বেঁচে থাকবেন শরীরে শক্তি থাকলে নারকেল গাছের সাথেই থাকবে তাঁর জীবন জীবিকার খেলা।

বৃদ্ধ অবেদ আলী জানান, এক সময় ইটভাটায় কাজ করতেন। তাদের সরদার একদিন তার মা বাবাকে তুলে অকথ্য ভাষায় গালী দিলে রাগ করে তিনি কাজ ছেড়ে চলে আসেন। বাড়িতে এসে চিন্তা করেন স্বাধীন পেশা বেছে নেয়ার। সে থেকেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়েছেন। এই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তাদের চেহারায় নেই কোনো ক্লান্তির ছাপ। তবে তাঁর জীবনে একটি আশা আছে- আজমীর শরীফ হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি (র.) এর মাজারে সস্ত্রীক যাওযার খুব বাসনা আছে, যদি বেঁচে থাকেন। এ জন্য কিছু টাকাও ধীরে ধীরে সঞ্চয় করে যাচ্ছেন।

স্ত্রী শরুফা বেগম জানান ৪৫ বছরের বৈবাহিক জীবনে তারা সম্পদহীন হলেও সুখি পরিবার। স্বামীর অভাবী সংসারে তিনিও এক লড়াকু সৈনিক। সুখ তারা খোঁজেন না, এই নিয়তিতেই সন্তুষ্ট তাঁরা। তবে তাঁদের স্বপ্ন নাতী আর নাতনীদের সুশিক্ষিয় শিক্ষিত করা। তারা তাদের দুর্দশার কথা কাউকে বলতে চান না। দু’ বছর আগে তাঁর স্বামী একটি বয়স্কভাতার কার্ড পেয়েছেন।

গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া অগনিত মানুষের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ এই দম্পতি। সকালে পান্তাভাত, কাঁচা পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ পেটপুরে খেয়ে বেরিয়ে পরেন। দুপুরে চিনি ছাড়া রং চা আর রুটি-কলা, রাতে মোটা চালের ভাত তাদের প্রতিদিনের খাবার।

আবেদ আলী বয়স্ক হলেও অতি রসিক মানুষ তিনি। প্রচণ্ড মনোবল নিয়ে বলেন, আপনাদের চেয়েও আমার শরীরে শক্তি বেশি। আমি কোনো ওষুধ খাই না। মাঝে মাঝে শরীর ব্যাথা করলে লতাপাতা ছেঁচে রস খাই, ঝামেলা শেষ। তি

আপনার মতামত লিখুন :