নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী নাপা শাকের পেলকা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:06 PM, 15 April 2020

দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলার অন্যতম মুখরোচক ও জনপ্রিয় তরকারি এক ধরনের গাছ নাপা শাক নামে পরিচিত। অনেকেই লাফা শাকও বলে। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ম্যালোভা পারভিফ্লোরা বা ম্যালো পাতা নামে পরিচিত।নীলফামারী সরকারী কলেজের উদ্ভিদ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রহিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই শাকের বৈজ্ঞানিক নাম হলো ম্যালো পাতা। এই জনপদের মানুষের প্রিয় ও সুস্বাদু একটি শাক। এটি সহজেই আবাদ হয়।’ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা জানান, নাপা শাকের অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির পাশে অল্প জমিতে বীজ ফেলে জৈব সার দিয়ে এই শাক ফলানো যায়। এতে কৃষকের তেমন বড় ধরনের খরচ হয় না। সেচ, নিড়ানি দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। উত্তরাঞ্চলের বাজরে চাহিদাও যথেষ্ট। এটি শীতকালে চাষ হয়ে থাকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লেবাননের মানুষ এই শাকের পাতা সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। নাপা শাকের পাতা ও ডাটি দিয়ে চা তৈরি করে পান করে তারা। এই শাক আঠালো এক ধরনের পদার্থ বহন করে। ঢেঁড়স ও জবা ফুলেও এই আঠালো পদার্থ পাওয়া যায়। এজন্য বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার হয়। লাফা শাক উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়াসহ পৃথিবীর সর্বত্রই জন্মে।

একই কলেজের উদ্ভিদ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতে এটি প্রধানত শীতকালীন সবজি হিসেবে চাষ করে থাকে কৃষকরা। বর্ষা মৌসুম বাদে সব ঋতুতেই এই শাকের চাষ হয়ে থাকে। এই শাক বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার ও আসামের গোয়াল পাড়া এলাকায় চাষ করা হয়। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গের নীলফামারীর মানুষের মুখে মুখে এখন লাফা শাকের গল্প। নাপা শাকের পেলকার স্বাদ যেন মুখে লেগেই আছে। নাপা শাক ভাজি, ঝোল ও পেলকা বা খাটার জন্য বিখ্যাত। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বতুয়া শাকও খুবই একটি জনপ্রিয় শাক। পেলকার সহযোগী উপকরণ হলো বতুয়া শাক।’
এছাড়াও, পাট শাকের ভাজি, ঝোল ও খাটা, কচুশাকের পাতা ও সজনে শাকের পাতার পেলকা ঐতিহ্যবাহী ও মজাদার খাবার হিসেবে এই জনপদের মানুষের কাছে অতি প্রিয়।
নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক তসলিম উদ্দিন (৬০) বলেন, ‘বাহে এখনও এলাকার মানুষ খড়খড়া (বাসি ভাত) ভাতের সাথে সকাল বেলা নাপা শাকের পেলকা দিয়া ভরাপেট ভাত খায়। এটা হামার (আমাদের) গ্রামের মানুষের জন্য মজার খাবার। নাপা শাকের সাথে সিঁদলের ভর্তা হলে তো কথাই নাই। এক থালি (থালা) ভাত চম্পেট (শেষ)। পেলকা হলে আর কিছুই নাগে না হামাক (আমাদের)।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘নীলফামারী জেলায় নাপা শাকের প্রচুর আবাদ হয়। চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। বাজারে বেচাকেনাও ভালো হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে নাপা শাকের আবাদ হয়েছিল ২২১ হেক্টর জমিতে। এই বছর আবাদ এখনও চলমান আছে।’

আপনার মতামত লিখুন :