ক’রোনার মধ্যেই এক সঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন অঞ্জনা

banglarjay1banglarjay1
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:23 AM, 12 June 2020

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা মাঝিপাড়া গ্রামের শ্রীদাম হালদারের মেয়ে অঞ্জনা রানী (২২) একই সঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের দু’জন পুত্র ও দু’জন কন্যা সন্তান। এদের মধ্যে এক পুত্র সন্তান জন্মের সময় হাসপাতালে মারা যায়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে অঞ্জনার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রসুতিসহ বাকি ৩ সন্তান সুস্থ্য আছে। এ সময় ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

অঞ্জনার মা জসেদা রানী জানান, তিন বছর আগে তার মেয়েকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের সঞ্জয় হালদারের সঙ্গে বিয়ে দেন। সন্তান সম্ভবা হলে ৫ মাস আগে বাবার বাড়িতে আনা হয়। এ সময় অঞ্জনার স্বামী চাকুরি নিয়ে কাতার চলে যায়।

গত ৬ জুন প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে সাভারস্থ প্রাইম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভর্তি করলে সেখানে অঞ্জনার ৪টি সন্তানের জন্ম হয়। এদের মধ্যে একজন মারা গেলে ও বাকি তিন নবজাতকের আইসিইউর প্রয়োজন হয়ফিলিস্তিনের জেরুসালেমে একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ হলেন যমজ চার বোন। মেধা, স্মৃতিশক্তি ও পড়াশোনায় তারা অনন্য। জেরুসালেমের নিকটস্থ উম্মে তুবা গ্রামে তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ওই যমজ চার বোনের নাম হচ্ছে—দিনা, দিমা, সুসান ও রাজান। তাদের বয়স এখন আঠারো।

একসঙ্গে তাদের পাঠশালায় যাওয়া ও পাশাপাশি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে।

ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই চার বোন কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মা নাজাহ আল-শুনাইতি। তিনি জানান, আমার এই চার সন্তান যমজ হওয়ায় তাদের প্রায় সবকিছুতে মিল রয়েছে। তাদের পড়াশোনা ও জ্ঞানভিত্তিক তাড়নায় নিজেই অবাক হন নাজাহ।

চার হাফেজ সন্তানের জননী আরও বলেন, আমার এই চার সন্তানের মধ্যে অদ্ভুদ কিছু মিল রয়েছে। শৈশব থেকেই তারা একসঙ্গে থাকত, সব কাজ করত, অসুস্থ হতো, সুস্থ হতো, খেলাধুলা করত, একইরকম পোশাক পরতে চাইত।

চারজনেরই কালো রং পছন্দ। ফুটবল, বাস্কেটবল এবং ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘দাবাকা’ও পছন্দ করে চারজন। বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়া চারজনের স্বপ্ন।

তাই তাদের গ্রামের মসজিদে পাঠানো হয় কোরআন হিফজ করতে। নামাজ পড়ার জন্য একই রকমের পোশাকও কিনে দেয়া হয়।

নাজাহ জানান, তারা যখন ছোট ছিল তখন তাদের চারজনকে ভিন্ন ভিন্নভাবে চিনতে কষ্ট হতো। তাই চিনতে সহজ হওয়ার জন্য তিনি তাদের হাতে আলাদা রঙের উলের সুতা পরিয়ে দিতাম।তবে এখন আর তাদের চিনতে কষ্ট হয় না। কণ্ঠস্বর শুনেই আলাদা আলাদাভাবে তাদের চেনা যায়।

তবে এই চার হাফেজের জন্মের সময় চিকিৎসকরা নাজাহকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, এই চার যমজের দুইজনকে গর্ভপাত করে ফেলতে। কিন্তু গর্ভের সপ্তম মাসে চার বোনই সুস্থ অবস্থায় জন্ম নেয়।

নাজাহ বলেন, ছয় সন্তানের পর এই চার মেয়ে তার জীবন আলোকিত করেছে। ফিলিস্তিনের প্রসিদ্ধ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বা প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া স্বপ্ন দেখেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :