ইউরোপ-আমেরিকায় ভেন্টিলেশন-পিপিই’র সংকট, আমাদের নয়: তথ্যমন্ত্রী

banglarjay1banglarjay1
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:31 AM, 12 June 2020

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিতে ইউরোপ-আমেরিকায় ভেন্টিলেশন-পিপিই’র সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে পিপিই’র জন্য বিক্ষোভ হয়েছে। কানাডায় ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাস্কের সংকট ছিল।

আমাদের দেশে এ ধরনের সংকট হয়নি বরং দু’দিন আগে নাইজেরিয়া বিমান পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পিপিই ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে গেছে। আমরা এসব সুরক্ষাসামগ্রী মালদ্বীপেও পাঠিয়েছি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামের ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সারা পৃথিবীতে ভেন্টিলেশন ইউনিটের সংকট ছিল।

একারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের চেয়ে অপেক্ষকৃত তরুণদের ভেন্টিলেশন ইউনিটের মাধ্যমে চিকিৎসার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

তবে আমাদের দেশে এ ধরনের সংকট হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবে সরকার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। চিকিৎসায় নিয়োজিতদের সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।

এ সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে অনেক সময় নানা গুজব ও অপপ্রচার দেখা যায়।

কিন্তু করোনাভাইরাসসহ যেকোনও বিষয়ে গুজব, আতঙ্ক বা অপপ্রচার ছড়ানো ফৌজদারি অপরাধ, যা শাস্তিযোগ্য। ইতোমধ্যে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘটলেও সরকার ব্যবস্থা নেবে।’

ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিট উদ্বোধনের পর আগাম সতর্কতা হিসেবে চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টারকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী এ সময় করোনা ইউনিট চালুর জন্য ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান এবং ইউএসটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সদ্য স্থাপিত ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিটটি পুলিশ ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকারসহ সর্বসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ সময় চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য উপকরণ ও বাইরে ঔষধালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সাংবাদিকদের সহায়তা চান।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ ও ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের পক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী নূর-ই জান্নাত আয়েশা ইসলাম দীনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে (বেঁচে) কে দেশ চালাবে, তা নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের শুরুর দিন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাঙ্গা।

নিজের বক্তব্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে সশরীরে সংসদে না এসে ভার্চ্যুয়াল ব্যবস্থাপনায় সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

সংসদে জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের শুরুর দিনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা এই তিনটি দেশের কথা জানি।

তারা ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পার্লামেন্ট পরিচালনা করছেন। তাদের অনেকেই সংসদে আসছেন না। সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের সংসদে আসতে অসুবিধা নেই।

কিন্তু জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি সংসদে না এসে যদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাড়িতে থেকে কথা বলতেন, আমরা নিশ্চিত হতাম।’

রাঙ্গা বলেন, ‘দেশের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, এগুলো কোনো না কোনো একদিন আমরা করতে পারব।

কিন্তু উনি (শেখ হাসিনা) না থাকলে আমাদের সবার জন্য… একটা অসুবিধা বোধ করি, দেশটা চালাবে কে?

বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যাকে প্রয়োজন রয়েছে। আপনাকে আমি অনুরোধ করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যদি সম্ভব হয় আপনি বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করুন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাঙ্গার এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘জন্ম যখন হয়েছে মরতেই হবে। তাই গুলি খেয়ে মরি, বোমা খেয়ে মরি, করোনাভাইরাসে মরি, অসুস্থ হয়ে মরি। এখন কথা বলতে বলতেও মরে যেতে পারি।

মৃত্যু যখন অবধারিত, তখন মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ভয় কখনো পাইনি, পাবো না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, জীবন আল্লাহ একদিন নিয়ে যাবেন—এটাই আমি বিশ্বাস করি।

তিনি মানুষকে কিছু কাজ দেন, সেই কাজটুকু করতে হবে। আল্লাহর লিখিত আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, যতক্ষণ এই কাজটুকু শেষ না হবে, ততক্ষণ কাজ করে যাব। কাজ শেষে আমিও চলে যাব। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’

এ সময় জীবনের মায়া করলে কিংবা ভীত হলে ৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি দেশে আসতেন না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আপনার মতামত লিখুন :